যশোরের শার্শা উপজেলায় ক্লুলেস এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে শার্শা থানা পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ঘটনার শুরু ৩০ মার্চ ২০২৫, রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে, যখন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ জানতে পারে যে গোগা ইউনিয়নের শফির ইটভাটা সংলগ্ন পাকা রাস্তার পাশে একটি মোটরসাইকেলসহ এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে।
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি সড়ক দুর্ঘটনা বলে সন্দেহ করা হলেও, পরবর্তীতে গভীর তদন্তে বেরিয়ে আসে এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) উজ্জ্বল হোসেন ও তার টিম অভিযান চালিয়ে ৪ এপ্রিল রাতে বেনাপোল থানার শিকরী গ্রাম থেকে আমানত উল্লাহ (২৮) ও রাত ৪টা ২৫ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার কাঁদপুর থেকে জাহিদ হাসান (২৫) কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে হত্যা করেছে। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় জাহিদ ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে মিন্টুর বাড়িতে যায় এবং সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে শার্শার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাত ৯টা ৫০ মিনিটে শফির ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে, আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জাহিদুল, আলাউদ্দীন, হাফিজুর, আমানত উল্লাহ, বিল্লাল, জুম্মান এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ভিকটিমকে থামানোর চেষ্টা করে।
ভিকটিম পালাতে চাইলে জাহিদুল তার গলায় কাঠের চলা দিয়ে আঘাত করে এবং পড়ে গেলে সবাই মিলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৪, তারিখ ০৪/০৪/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত আলামত:একটি Apache 4V কালো মোটরসাইকেল,তিনটি কাঠের চলা,দুটি জোড়া স্যান্ডেল,একটি বাটন মোবাইল ফোন,একটি টর্চ লাইট
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
No comments:
Post a Comment