মৃত্যু অবধারিত। আর মৃত্যু-পরবর্তী প্রথম ধাপই হলো কবর। এ থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত জীবনকে বলা হয় আলমে বারজাখ। বিখ্যাত সাহাবি হজরত উসমান (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম ধাপ। যে এর আজাব থেকে মুক্তি পাবে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে মুক্তি পাবে না, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হবে। (তিরমিজি: ২৩০৮)
অনেকে জানতে চান-- কবরের পাশে ফুল গাছ লাগানো কি জায়েজ?
এর উত্তর হচ্ছে, কবরের পাশে ফুল গাছ লাগানো জায়েজ। সৌন্দর্য বিকাশের জন্য কবরের আশপাশে ফুলগাছ লাগানো যেতে পারে। তবে ফুল গাছ লাগানোর উদ্দেশ্য যদি মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানো হয়, তাহলে এটা নিষিদ্ধ হবে।
জানাজার নামাজের পর মৃত ব্যক্তিকে পশ্চিম দিক থেকে কবরে নামাবে। যাতে করে কবর থেকে যারা লাশটা ধরবে তারা কিবলামুখী হয়। (ফাতওয়ায়ে শামি ৩/১৪০)
মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় দোয়া পড়তে বলেছেন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। দোয়াটি হলো:
بِسْمِ الله وَ عَلَى سُنَّةِ رَسُوْلِ الله بِسْمِ اللهِ وَ عِلَى مِلَّةِ رَسُوْلِ الله (উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ ওয়া আলা সুন্নাতি রসুলিল্লাহ। অন্য বর্ণনায় এসেছে- বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রসুলিল্লাহ।)
অর্থ: আল্লাহ তাআলার নামে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ত্বরিকা বা দলের ওপর রাখা হচ্ছে। (তিরমিজি ও আবু দাউদ) এ দোয়া পাঠ করে মুর্দাকে সম্পূর্ণ ডান কাতে কিবলামুখী করে শোয়াতে হবে৷ এটাই সুন্নতি পদ্ধতি।
উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে জানা যায় যে, মৃত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ ডান কাতে শোয়ানো সুন্নত। কিন্তু কোনো কোনো এলাকায় মৃত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ ডান কাতে না শোওয়ায়ে, চিৎ করে শোওয়ায়ে শুধু চেহারাকে কিবলামুখী করা হয়। এই পদ্ধতি সুন্নাহ সম্মত নয়। আফসোসের কথা হচ্ছে, মুখে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকায় শোয়ানোর কথা স্বীকার করা হয়, অথচ কাজ করা হয় তার বিপরীত।
মৃতব্যক্তিকে কবরে চিৎ করে শোয়ায় শুধু চেহারা কেবলামুখী করা হয়, যা রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে শিক্ষা দেননি। এ ব্যাপারে শরিয়তের বিধান হল, জীবিত মানুষ যেভাবে সুন্নত তরিকায় ডান কাতে শয়ন করে, মুর্দাকে সেভাবে কবরে ডান কাতে শোয়ানো সুন্নত।
চিৎ করে শোওয়ায়ে ঘাড় মুচড়িয়ে শুধুমাত্র চেহারাটাকে কোনো রকমে কিবলামুখী করা শরিয়তসম্মত নয় বরং সম্পূর্ণ ডান কাতে শোয়াবে, যাতে স্বাভাবিকভাবে চেহারা কিবলামুখী হয়ে যায়। কারণ শরিয়তে বুকের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন, নামাজেও মুখ ঘুরে গেলে নামাজ মাকরুহ হয়, কিন্তু নামাজ ভঙ্গ হয় না, অথচ বুক ঘুরে গেলে নামাজ ভেঙে যায়৷
সুন্নত পদ্ধতি হলো, মাইয়্যেতকে কবিরে এমনভাবে শোওয়ানো যাতে বুক ও চেহারা সম্পূর্ণ শরীর কেবলার দিকে হয়ে যায়। প্রয়োজনে মাইয়্যেতকে পূর্বের দেয়ালের সঙ্গে ঠেক লাগিয়ে রাখবে। যেন মাইয়্যেতকে সহজে ডান কাত করে রাখা যায়।
No comments:
Post a Comment